ধর্ম অবমাননার আইন নিয়ে কঠোর হওয়ার জন্যে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে
রাজনৈতিক প্রতিবেদক
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো ধর্ম অবমাননা বিষয়ে অন্তঃবর্তীকালীন সরকার এর উপর চাপ প্রয়োগ করছে যেন বর্তমান ফৌজদারী আইনকে কঠোর করা হয় এবং ২ বছরের সাজাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদন্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ব্যাপারে ধীরে ধীরে জোরালো আন্দোলন শুরু হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এধরনের বক্তব্য ও দাবী সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে বিভিন্ন সভা সমাবেশে। ইসলামী রাজনীতির এই ঊর্ধ্বগতির সাথে সাথে আশঙ্কাজনকভাবে সেক্যুলার মতাদর্শী বা মৌলবাদ-বিরোধী বিভিন্ন লেখক/ব্লগার/কমেন্টারদের হামলার শিকার হচ্ছেন বলে সমর্থিত সূত্রে জানা গেছে। এই হামলাগুলো কী সংঘবদ্ধভাবে হচ্ছে কিনা কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা অনুসারে, সেব্যাপারে এখনো অবধি কিছু জানা যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আক্রান্ত অনেকগুলো সূত্র জানাচ্ছে হামলাকারীরা কোনো না কোনো ইসলামী জঙ্গী সংগঠনের অনুসারী বলে মনে হয়েছে তাদের পোশাক/পরিচ্ছদ/আচরণ দেখে।
কুষ্টিয়ায় মোসাম্মাত নাসরিন সুলতানা, জালালপুরে বুরহান উদ্দীন, সিলেটের নুরুল আমিন, দক্ষিণ সুরমার মুনায়েম আহমেদ, শরীয়তপুরের মোঃ জাকির হোসাইন, খুলনার গাজী আফতাবুননেসা রিতি, দিনাজপুরের মোঃ মিজানুর রহমান, কুমিল্লার গাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এর পরিবার এইধরণের আক্রমণের শিকার বলে জানা গেছে। হামলা পরবর্তী সময়ে অভিযোগ দায়ের করতে গেলে অভিযোগ ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে। বরঞ্চ থানাগুলো থেকে উপদেশ দেয়া হয়েছে যেন এই লেখকরা সমাজের আইন শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটায় এমন লিখালিখি থেকে বিরত থাকেন। আক্রান্তদের পরিবার জানান তাদের সন্তান তাদের নিজস্ব মতামত এর কারণে তাদের পরিবার হিসেবে কেন হামলার শিকার হবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন নীরব থাকবে এটা তাদের বোধগম্য নয়।
লেখকদের বেশিরভাগই বিতর্কিত ওয়েবসাইট এথিস্টনোট, এথিস্টএরা, এথিস্ট ইন বাংলাদেশে লিখালিখি করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ-ব্যাপারে মন্তব্যের জন্যে পাওয়া যায়নি।
